আবু হুরায়রা (রাঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী পর্ব -০৭

ইলমী যিন্দেগীঃ
আল্লাহ তাআলা ‘ইলমে দ্বীন’- যা ইসলামের সংরক্ষণের অন্যতম উপায়,
সেই ইলম অর্জনের স্পৃহা ও আগ্রহ ভীষণভাবে আবু হুরায়রা রা.-এর
মধ্যে নিজ কুদরতের মাধ্যমে দিয়েছেন। সেই দুষ্প্রাপ্য সম্পদের
পাশাপাশি সারওয়ারে কায়েনাত সা.-এর বিশেষ দৃষ্টি, মুহাব্বত ও দয়াও
তাঁর একটি অন্যতম অর্জন। নিজ চোখে তিন দেখলেন, রাসূলুল্লাহ সা.
তাঁকে ‘ওয়াউল ইলম বা জ্ঞানের পাত্র নামে বিশেষিত করে জ্ঞানের
গভীরতা সত্যায়িত করেছেন।
.
আবু হুরায়রা রা, ইলমে হাদীস ছাড়া ইলমের অন্যান্য শাখাতেও সমান
পারদর্শী ছিলেন। এটা ভিন্ন প্রসঙ্গ যে, তিনি মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত
হাদীসের প্রচার ও প্রসারে আত্মােৎসর্গ করেছিলেন, যদ্দরুন তাঁকে
সর্বোচ্চ হাদীস রেওয়ায়াতকারীদের মধ্যে গণ্য করা হয়ে থাকে। আবু
হুরায়রা রা. বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৫৩৪৭ (পাঁচ হাজার তিনশ’
সাতচল্লিশ)। তাঁর বর্ণিত হাদীসের একটি বৈশিষ্ট ছিল যে, হাদীসগুলাে
দীনের নির্দিষ্ট কোনাে অংশের সাথে সম্পর্কিত নয়; বরং দীনের সমুদয়
আহকাম ও মাসায়িলের সাথে সম্পর্কিত এবং অধিকাংশ রেওয়ায়াতই
‘মার’ (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সরাসরি বর্ণিত হাদীস।)
.
আবু হুরায়রা রা. স্বয়ং রাসূলে আক্রাম সা. ছাড়াও আয়িশা, আবু বকর,
ওমর, ওসামা বিন যায়দ, সালমান ফারেসী, উবাই বিন কা’আব,
আবদুল্লাহ্ ইবনে সালাম রা.ম আজমাঈন এবং অন্যান্য বেশ ক’জন
সাহাবায়ে কেরাম রাম আজমাঈন থেকেও হাদীস বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে আবু হুরায়রা রা. থেকে হাদীস বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের তালিকাও
বেশ দীর্ঘ। ইমাম বুখারী রহ. লিখেন- আবু হুরায়রা রা. থেকে আট
শ’রও অধিক রাবী তার থেকে হাদীস সংগ্রহ করেছেন। যাদের মধ্যে
বিভিন্ন সাহাবী ছাড়াও আইম্মায়ে তাবিঈনদের বিশাল একটি জামাত এবং
হাদীসের বহু ওলামায়ে কেরাম অন্তর্ভুক্ত আছেন।
(আলবিদায়া ওয়ানিহায়াহ্ : খন্ড- ৮, পৃষ্ঠা- ১০৩)
.

Leave a Reply

Your email address will not be published.