আবু হুরায়রা (রাঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী পর্ব -০৪

রিসালাতের যমানার পরবর্তী : রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর অনন্তের যাত্রার পরও আবু হুরায়রা রাঃ- দীনী, ইলমী এবং মুজাহিদানা কর্মকান্ডের সাথে ওৎপ্রােতভাবে জড়িয়ে ছিলেন। মুসনাদে আহমাদ ও তবকাতে ইবনে সা’আদের বর্ণনায় দেখা যায়- আবু বকর সিদ্দীক রাঃ তাঁর খেলাফতকালে আবু হুরায়রা রাঃ যেখানে বসে
হাদীস শরীফের প্রচারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন সেখান থেকে ‘আলা রাঃ-এর সাথে বাহরাইন গিয়ে মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এভাবে ‘ ফিতনায়ে ইরতিদাদ’ তথা ধর্মদ্রোহ প্রবণতা
ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদেও আবু হুরায়রা রাঃ শরিক ছিলেন।
(মুসনাদে আহমাদ, খন্ড- ১, পৃষ্ঠা-১৮১)
ওমর রাঃ.’র খেলাফতকালেও তিনি বাহরাইনের কর্মকর্তা চিলেন। ওসমান রাঃ ‘র খেলাফত আমলে পুর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন দেশে ঘটিত জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য মদীনা মুনাওয়ারায় এসেছিলেন। এখানেও তিনি হাদীস প্রচারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ক্রান্তিকালেও জনসাধারণেকে আমীরুল মুমিনীন ওসমান রাঃ-কে সাহায্য-সহযােগিতার হাত প্রসারিত করার জন্য পরিপূর্ণ প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। ইতিহাসবেত্তাদের মতে, আবু হুরায়রা রাঃ
ঐসব ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন যারা ওসমান রাঃ-এর নিরাপত্তায় জানবাজী রেখে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আলী রাঃ-এর খিলাফতের যমানায়ও বিভিন্ন ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকলে অনেক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর ফরমান সামনে রেখে একা একা থাকার ইচ্ছা পােষণ করলে আবু হুরায়রা রাঃ-এর তাদের দলভূক্ত থাকেন। এতে করে তিনি সেই সময়ে ঘটিত যুদ্ধগুলােতে নীরবতা পালন করেন। আমীরে মু’আবিয়া রা.’র যমানায়ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে
মদীনার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.