আবু হুরায়রা রাঃ এর ১০০ ঘটনার ১ ও ২ নং ঘটনা

আবু হুরায়রা রাঃ এর ১০০ ঘটনার ১ নং ঘটনা উপনাম

                                                                                 .
‘আবু হুরায়রা’র এই উপনামের ওপর অধিকাংশ ইতিহাসবিদদের মতৈক্য
পাওয়া যায়। এই উপনামের অর্থ হচ্ছে ‘বিড়ালওয়ালা’। নামকরনের
ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে- একবার
আবদুল্লাহ বিন রাফে’ রা. আবু হুরায়রা রা. কে জিজ্ঞেস করলেন যে,
আপনাকে কেন আবু হুরায়রা বলা হয়? উত্তরে তিনি বললেন, আমি
একটি বিড়াল পালতাম। রাতের বেলা বিড়ালটি গাছের ডালে রেখে
আসতাম। দিনের বেলা যখন ছাগল চড়াতে যেতাম তখন তাকে সাথে
নিয়ে নিতাম এবং অবসর সময়ে তার সাথে খেলা করতাম। লােকেরা।
বিড়ালের সাথে আমার এই অস্বাভাবিক খাতির দেখে ‘আবু হুরায়রা
বলতে শুরু করলাে।
.
(তিরমিযী, হাদীস নং- ৩৮৮৫। আলবিদায়া ওয়ানিহায়াহ্ : খন্ড- ৮,
পৃষ্ঠা- ৯১৯। সিয়ারুস্সাহাবাহ : খন্ড- ৩, পৃষ্ঠা- ১৪৯। উসদুল গাবাহ্ :
খন্ড-৫, পৃষ্ঠা- ৩১৬)
:.
আবু হুরায়রা রাঃ এর ১০০ ঘটনার ২ নং ঘটনা হিজরত
.
৬ হিজরীর শেষ কিংবা ৭ হিজরীর শুরুতে তােফাইল বিন উমর রা.
সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এবার বাড়ী থেকে মদীনার দিকে হিজরতের চেষ্টা
করা যাক। সেই লক্ষ্যে তিনি দাউস’ গােত্রের অন্যান্য মুসলমানদের
হিজরতের জন্য উৎসাহ দিতে লাগলেন। তার গােত্রের ৭০-৮০ জন
লােক (ভিন্ন আরেক বর্ণনায় ৪০০ জন লােক) হিজরতের জন্য প্রস্তুত
হলেন। তােফাইল বিন আমর সবাইকে সাথে নিয়ে ঘর-বাড়ির মায়া
ছেড়ে মদীনার রাহী হয়ে গেলেন। এই হিজরতকারী দলটির সাথে আবু
হুরায়রা রা.-এর ছিলেন, সঙ্গে তাঁর এক গােলামও ছিল। তাঁর মাতা
কথনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। কিন্তু তিনি মা’কে ঘরে একা না রেখে।
নিজের সাথেই নিয়ে গেলেন।
..
দাউস গােত্রের মুহাজিরীনদের এই কাফেলা এক মনযিলের পর আরেক
মনযিল অতিক্রম করতে করতে এক সময় মদীনায় মুনাওয়ারায় পৌঁছে
গেলেন। পোঁছামাত্র জানতে পারলেন, রাসূলে আক্রাম সা, গাযওয়ায়ে
খাইবারে তাশরীফ নিয়ে গেছেন। তারা সেখানে চললেন। আবু হুরায়রা
রা, মদীনায় পৌঁছার পরের ঘটনা এভাবে বর্ণনা করেন-
..
“রাসূলুল্লাহ সা. যে সময়ে খাইবারে তাশরীফ নিয়ে গেছেন তখনই আমি
মদীনায় এসে পৌছি। ফজরের নামায সাব্বা’ বিন আরফাতাহ্ রা.-এর
ইকতিদায় পড়লাম; যাঁকে নবী কারীম সা, মদীনায় তাঁর প্রতিনিধি
হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। তিনি প্রথম রাকা’আতে সূরা মারইয়াম এবং
দ্বিতীয় রাকা’আতে এ-iEzljt; ওয়ালুল্লিল মুতাফফিফীন (ওজনে কম
দাতাদের জন্য বড়ই অশুভ পরিণতি) পড়েছেন। আমি মনে মনে
বললাম, ‘
..
ইদ’ গােত্রের অমুক ব্যক্তির পরিণতিও অশুভ, যে দুটি
দাঁড়িপাল্লা রেখেছে। একটি দিয়ে কম তুলে ক্রেতার হাতে দেয়,
আরেকটি দিয়ে বেশি তুলে বিক্রেতার কাছ থেকে নেয়।” অন্য একটি
বর্ণনা মতে- ‘ইদ’ গােত্রের সকলে এই অসৎ উদ্দেশ্যে দুটি দাঁড়িপাল্লা
তৈরি করে রাখে।
.
(আলবিদায়া ওয়ানিহায়াহ্ : খন্ড- ৮, পৃষ্ঠা- ৯২০। সিয়ারে
আ’লামুননুবালা : খন্ড- ২, পৃষ্ঠা- ৪২৫। তিরমিযী, হাদীস নং- ৩৮৮৩)

Leave a Reply

Your email address will not be published.