দাড়ি না রেখে মারা গেলে কি জান্নাতে যাওয়া যাবে

প্রশ্ন: একজন মুসলিম নামাজী কিন্তু দাড়ি না রেখে মারা গেছে এবং টাখনুর উপরে ও প্যান্ট পরিধান করত না। এ ব্যাক্তি কি জান্নাতি হতে পারবে?
উত্তর:
দাড়ি কাটা, ছাটা বা মুণ্ডন করা, (পুরুষদের জন্য) টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে
কাপড় পরিধান করা ইত্যাদি কবীরা গুনাহ। মুসলিম ব্যক্তির জন্য
এ সব গুনাহ থেকে তাৎক্ষনাৎ তওবা করা ফরজ।
কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি এ সকল কবিরা গুনাহে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তওবা
না করে মৃত্যু বরণ করে তাহলে সে গুনাহগার অবস্থায় মৃত্যু বরণ করল।
আখিরাতে আল্লাহ চাইলে তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে পারেন আবার
দুনিয়ার জীবনে কোন নেক কাজ করার কারণে তাকে ক্ষমাও করতে পারেন।
এটি সম্পূর্ণ মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়। তবে ক্ষমা পাওয়ার জন্য শর্ত হল,
দুনিয়ার জীবনে শিরক থেকে দূরে থাকা।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ اللَّـهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّـهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا
“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে।
তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।
আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।”
(সূরা নিসা: ৪৮)
আল্লাহ যদি তার উক্ত গুনাহগুলো ক্ষমা না করেন তাহলে জাহান্নামে শাস্তি হওয়ার পর
কালিমা পড়ার কারণে এক পর্যাযে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(অর্থাৎ শিরক ছাড়া অন্য গুনাহের কারণে সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামী হবে না।)
এটিই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআর আকীদা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صَادِقًا مِنْ قَلْبِهِ، دَخَلَ الْجَنَّةَ»
“যে ব্যক্তি মনে-প্রাণে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত উপাস্য কেউ নাই)
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (মুহাম্মদ সা. আল্লাহর প্রেরীত দূত) এই সাক্ষ্যের উপর অটল
থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ)
সুতরাং কালিমার স্বাক্ষদানকারী প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অনতিবিলম্বে শিরক,
কুফুরী, বিদআত সহ সকল প্রকার কবীরা (বড়) ও সগীরা (ছোট) গুনাহ থেকে তওবা করা ফরজ।
কারণ আমরা কেউ জানি না কখন কার মৃত্যু এসে হাজির হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মৃত্যুর পূর্বে সকল প্রকার গুনাহ থেকে তওবা
করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.