দৈনন্দিন জীবনে রসুরুল্লাহ (সঃ)- এর কিছু সুন্নত ও আদব সূমহ

ঘুমানোর সুন্নাহ সমূহ
১·ইশার সালাতের পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চেষ্টা করা, যাতে তাহাজ্জুদের জন্য উঠা সহজ হয়।
(বুখারী হা: নং-৫৪৭)
.
২·ওজু করে শয়ন করা। (বুখারী হা: নং-৬৩১১)
.
৩·শয়নের পূর্বে বিছানা ভালভাবে ঝেড়ে নেয়া।
(বুখারী হা: নং-৬৩২০)
.
৪·শয়নের পূর্বে পরিহিত কাপড় পরিবর্তন করে ঘুমের কাপড়
পরিধান করা। (আল মাদখাল, ৩/১৬২ )
.
৫·শয়নের পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়ে নিম্নের কাজগুলো করা।
ক·দরজা বন্ধ করা।
খ. পানি ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের পাত্র ঢেকে রাখা। ঢাকার জন্য কোন বস্তু না পাওয়া গেলে বিসমিল্লাহ পড়ে কোন
একটি লাঠি বা কোন ছড়ি রেখে দেয়া।
গ. বাতি নিভানো। (বুখারী হাঃ নং-৫৬২৩-২৪)
.
৬·ঘুমানোর পূর্বে তিনবার করে সুরমা লাগানো। (মুস্তাদরিক হাঃ নং-৮২৪৯)
এটা নবী সাঃ করতেন , তাই এটা সুন্নাত , তাছাডা দিনের বেলায় চোখে ধূলা বালু পডে থাকলে তা চোখে সুরমা
ব্যবহারের দ্বারা বাহির হয়ে যায়, আর সুরমা চোখের জ্যুতি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, ইহা রোগ প্রতিরোধক
.
৭·ঘুমানো পূর্বে কিছু পরিমান কুরআন তিলাওয়াত করা। বিশেষ করে সূরা ফাতিহা, সূরা কাফিরূন, আয়াতুল কুরছি,
আমানার রাসূল থেকে সূরা বাকারার শেষ পর্যন্ত, সূরা মূলক, আলিফ লাম মীম সাজদাহ ইত্যাদি তিলাওয়াত
করা। এত কিছু তিলাওয়াত করতে না পারলে কমপক্ষে ২/৩ টি ছোট ছোট সূরা পড়া।
(তাবরানী কাবীর, হা: নং-২১৯৫) (আল আদাবুল মুফরাদ
হা: নং-১২০৯) (বুখারী হা: নং-২৩৭৫)
.
৮. ঘুমানোর পূর্বে কয়েকবার দুরূদ শরীফ পড়া এবং তাসবিহে ফাতিমী পাঠ করা অর্থাৎ-৩৩ বার ছুবহানাল্লাহ, ৩৩
আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলা।
(বুখারী হা: নং-৩১১৩)
.
৯. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক সূরা নাছ প্রত্যেকটা তিনবার করে পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে যতটুকু সম্ভব মাথাথেকে পা
পর্যন্তসমস্তশরীরে হাত মুছে দেয়া। তিনবার এমন করা। (বুখারী হা: নং-৫০১৭)
.
১০. ঘুমানোর সময় ডান কাতে কিবলামূখী হয়ে শোয়া। উপুর হয়ে শোয়া নিষেধ কারণ এভাবে শয়ন করাকে আল্লাহ
ত‘য়ালা পছন্দ করেন না। (বুখারী হাঃ নং-৬৩১৪)
.
১১· ঘুমানোর পূর্বে তিনবার নিম্নের ইস্তেগফার পড়া:
اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِيْ لَاْ اِلَهَ اِلّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْكَ
(তিরমিযী হা: নং-৩৩৯৭)
.
১২·এই দু‘য়াটি পড়া
اَلَّلهُمَّ بِاسْمِكَ اَمُوْتُ وَ اَحْىَ
(বুখারী হা: নং-৬৩১৪)
.
১৩·শয়ন করার পর ভয়ে ঘুম না আসলে এই দু‘য়া পড়া
اَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَ عِقَابِهِ وَ شَرِّ عِبَادِهِ وَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيْطَانِ وَ اَنْ يَحْضُرُوْنَ
(তিরমিযী হা: নং-৩৫২৮)
.
১৪·স্বপ্নে ভয়ংকর কিছু দেখে ঘুম ভেঙ্গে চক্ষু খুলে গেলে
তিনবার
اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
পড়ে বাম দিকে থুথু ফেলে পার্শপরিবর্তন করে শোয়া। অতপর নিম্নোক্ত দু‘য়াটি পড়লে আর ক্ষতির কোন আশংকা থাকে না:
اَلَّلهُمَّ اِنِّيْ اَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرُّؤْيَا
(মুসলিম শরীফ হা:নং-২২৬২)
ঘুম থেকে জেগে ওঠার সুন্নত…
১. হাত দ্বারা মুখম-ল মুছে ঘুমের ভাব দূর করা। হাদীস শরীফে আছে: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে হাত দ্বারা মুখম-ল মুছে ঘুমের ভাব দূর করতেন।’
-[মুসলিম]
.
২. দোআ পাঠ করা: “সমস্ত প্রসংশা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদিগকে মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন। আর তাঁর নিকটই আমাদের সকলের পূণরুত্থান হবে।” – [বুখারী: ৬৩১২]
.
৩.মেসওয়াক করা: অর্থাৎ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নিদ্রা হতে যখনই জেগে উঠতেন তখনই মেসওয়াক করতেন। -[বুখারী: ২৪৫, মুসলিম: ২৫৫]
.
খানা খাওয়ার সুন্নাত সমূহ
১. খানা খাওয়ার পূর্বে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়া।
২. দস্তুরখানের উপর খানা খাওয়া।
৩. খানার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া।
৪. খানা ডান হাত দিয়ে খাওয়া।
৫. বয়সের দিক দিয়ে যিনি বড় এবং বুযূর্গ তার দ্বারা খানা শুরু করানো।
৬. খাদ্যের ভুল ত্রুটি খোঁজ না করা।
৭. খাবার শেষে হাতের আঙ্গুল সমূহ চেটে খাওয়া। এবং খাবারের পাত্রগুলো আঙ্গুল দ্বারা ভালভাবে চেটে খাওয়া।
৮. এক ধরনের খাবার হলে নিজের সামনে থেকে খাওয়া।
৯.খানার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে ভুলে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্র “বিসমিল্লাহি আওয়্যালাহু ওয়া আখীরাহ” পড়া।
১০. প্লেট থেকে কোন অংশ পড়ে গেলে উঠিয়ে পরিস্কার করে খাবে।
১১. জুতা খুলে খানা খাওয়া।
১২. খানা খাওয়ার সময় হেলান দিয়ে না বসা।
১৩. তিনভাবে খানার সময় বসা যায়।
ক. পদযুগলে ভর করে উভয় হাঁটু উঠিয়ে।
খ. এক হাঁটু উঠিয়ে এবং অপর হাঁটু বিছিয়ে।
গ. উভয় হাঁটু বিছিয়ে অর্থাৎ নামাযে বসার ন্যায় বসে সামান্য সম্মুখ পানে ঝুঁকে আহার করা।
১৪. খানা সময় একেবারে চুপ থাকা মাকরূহ। তাই খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে পরস্পর ভালো ভালো কথা বার্তা বলবে।
তবে অহেতুক কথা দুঃশ্চিন্তাযুক্ত কথা এবং ঘৃণিত কথা বার্তা বলবে না।
১৫. খানা খাওয়ার পর উভয় হাত ভালভাবে ধৌত করবে।
১৬. খানার পর কুলি করে মুখ পরিস্কার করবে।
১৭. খানার শেষে দু‘‘আ পড়া এবং আগে দস্তরখানা উঠিয়ে পরে নিজে উঠা।
.
কাপড় পরিধানের সুন্নাত সমূহ (বুখারী শরীফ)
১. প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা কাপড় বেশি পছন্দ করতেন।(মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৭৩৭৯)
.
২. জামা-পায়জামাসহ সকল প্রকার পোশাক পরিধানের সময় ডান হাত ও ডান পা আগে প্রবেশ করানো।
(আবু দাউদ, হাদীস নং-৪১৪১)
.
৩. পুরুষদের জন্য পায়জামা, লুঙ্গি এবং জামা, জুব্বা ও আবা-কাবা পায়ের টাখনুর উপরে রাখা। টাখনুর নীচে
নামিয়ে পোশাক পরিধান করা হারাম।
হুযুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে কোন পোশাক পরিধান
করবে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।
(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৫৭৮৪/ আবু দাউদ হাদীস
নং-৪০৯৩, ৪১১৭/ সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৪৪৭)
বি.দ্র. মোজার হুকুম-এর ব্যতিক্রম।
.
৪. সাধারণভাবে কাপড় পরিধান করার সময় এই দু‘আ পড়া :
(মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৭৪০৯)
اَلْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِيْ كَسَانِيْ هَذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّيْ وَلَاقُوَّةْ
এবং নতুন কাপড় পরিধান করে এই দু‘আ পড়া
اَلْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِيْ كَسَانِيْ مَا اُوَارِيْ بِه عَوْرَتِيْ وَاَتَجَمَّلُ بِه فِيْ حَيَاتِيْ .
(তিরমিযী, হাদীস নং-৩৫৬০/ ইবনে মাজাহ, হাদীস
নং-৩৫৫৭)
.
৫. টুপি পরা। টুপির উপর পাগড়ী পরা মুস্তাহাব এবং লেবাসের আদব। তবে এটা নামাযের সুন্নাত নয়। টুপি ছাড়া
পাগড়ী বাঁধা সুন্নাতের পরিপন্থী। (আবু দাউদ, হাদীস নং-৪০৭৮)
.
৬. পাগড়ী বাঁধার পর মাথার পিছন দিকে এক হাত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখা। (মুসলিম, হাদীস নং-১৩৫৯)
.
৭. বিসমিল্লাহ বলে কাপড় খোলা আরম্ভ করা এবং খোলার সময় বাম হাত ও বাম পা আগে বের করা।
(আমালুল্‌ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং-২৭৪/
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস নং-২৪৯১০)
.
৮. জুতা প্রথমে ডান পায়ে পরা, অতঃপর বাম পায়ে পরা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৫৮৫৫)
.
৯. জুতা খোলার সময় প্রথমে বাম পা থেকে অতঃপর ডান পা থেকে খোলা।(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৫৮৫৫)
.
রাস্তায় চলার সময় সুন্নত ও আদব সমূখ
১. বড় রাস্তা হলে ডান দিকে চলা।
২. দৃষ্টি নত করে চলা।
৩. কিছু সম্মুখপানে ঝুঁকে চলবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটা চলতেন।
৪. হাত পা ছুড়ে ছুড়ে অহংকারের সাথে চলবে না।
৫. রাস্তা অতিক্রম করার সময় দ্রুত চলবে।
৬. নারীদের জন্য রাস্তার কিনারা ছেড়ে দিবে।
৭. প্রয়োজনে চলার পথে কোথাও থামতে বা অবস্থান করতে হলে এমন জায়গায় অবস্থান করবে, যাতে অন্যদের চলা
ফেরা ইত্যাদির ব্যাঘাত না ঘটে।
৮. পথে কষ্টদায়ক কিছু পেলে তা সরিয়ে দিবে।
৯. মুসলমাদেরকে সালাম দিবে এবং তাদের সালামের উত্তর দিবে।
১০. কোন অন্ধকে দেখলে প্রয়োজনে (ডান হাত দিয়ে তার বাম হাত ধরে) যতটুকু সে চায় এগিয়ে দিবে।
১২. নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হলেও তার জন্য লোকদেরকে পথ থেকে ধাক্কা দেয়া বা সরাবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর জন্য এরূপ করা হত না।
১৩. বৃদ্ধ লোকদের জন্য চলার সময় লাঠি নেয়া সুন্নতে আদিয়া।
১৪. উপর দিকে উঠার সময় ডান পা আগে বাড়ানো এবং ‘আল্লাহ আকবার’ বলা সুন্নত।
১৫. নীচের দিকে নামার সময় বাম পা আগে বাড়ানো এবং সুবহানাল্লাহ বলা সুন্নত।
১৬. সমতল ভূমি দিয়ে চলার সময় ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা সুন্নত।
১৭. ইয়াহুদী নাসারাদেরকে দেখলে তাদের জন্য পথ সংকুচিত করে দিবে প্রশস্ত করে দিবে না, যাতে তাদের
সম্মান প্রকাশ না পায়।
১৮. যাদের বয়স এবং ইলম বেশি তাদেরকে সামনে চলার জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া আদব। উল্লেখ্য, বয়স এবং
ইলম এ দুটোর মধ্যে ইলম অধিক মর্যাদার হকদার, অতএব অধিক বয়সী ব্যক্তি অধিক মইলমের
অধিকারীকে (যদিও তার বয়স কম হয়) সামনে চলার জন্য অগ্রাধিকার দিবেন।
.
কথা বলার আদব
.
১. কম কথা বলা উত্তম। সত্য বলা ওয়াজিব, মিথ্যা বলা হারাম।
.
২. সাধারণভাবে আস্তে কথা বলাই উত্তম। তবে বড় মজলিসের প্রয়োজন অনুপাতে জোরে কথা বলা যাবে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত জোরে কথা বলা ভালো নয়।
.
৩. নিজের চেয়ে অধিক বয়স এবং অধিক জ্ঞানসম্পন্ন লোকদের কথা বলতে অগ্রাধিকার দেওয়া আদব।
.
৪. তাহকীক বা তদন্ত ব্যতীত কথা বলা অন্যায়। যে কোন কথা শুনেই তাহকীক-তদন্ত ব্যতিত তা বর্ণনা করা মিথ্যার  শামিল।
.
৫. যে কথায় ঝগড়া এবং তর্ক সৃষ্টি হয়, তা বলা অন্যায়।
.
৬. নিজের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতের ব্যাপারে কোন খবর বা প্রতিশ্রুতিমূলক কথা বললে ইনশাআল্লাহ বলতে হবে।
.
৭. বড়দের সঙ্গে আদব রক্ষা করে কথা বলতে হবে।
.
৮. বড়দেরকে সম্মানজনক সম্বোধন করে কথা বলা আদব।
.
৯. কাউকে কাফের, ফাসেক, মালাউন, আল্লাহর দুশমন, বেঈমান ইত্যাদি বলে সম্বোধন করা নিষেধ।
.
১০. নিজের ভাঙ্গা ভাঙ্গা অভিজ্ঞতার কথা বলবে না, এতে শ্রোতাদের মনে বিরক্তির উদ্রেক হয়।
.
১১. আত্মপ্রশংসা অর্থাৎ নিজের প্রশংসা নিজে করা নিষেধ। এটা গোনাহে কবীরা।
.
১২. অতিরিক্ত ঠাট্টা মজাক না করা ভালো। এতে প্রভাব, লজ্জা-শরম ও পরহেজগারী কমে যায়।
.
১৩. যে শব্দ বা ভাষা খারাপ উদ্দেশ্যে এবং খারাপ অর্থে ব্যবহার করা হয় সেটা পরিহার করা কর্তব্য।
.
১৪. চিন্তা করে কথা বলতে হবে। বিনা চিন্তায় কথা বললে অনেক সময় মিথ্যা হয়ে যায়।
.
১৫.কথা সংক্ষেপ বা দীর্ঘ হবে না অর্থাৎ যতটুকু কথা বললে প্রয়োজন অনুযায়ী ততটুকু বলতে হবে।
.
১৬. চাটুকারিতামূলক কথা অর্থাৎ কারও তোষামোদ করে কথা বলা যাবে না।
.
১৭. কোন প্রয়োজনের কথা পূর্বে বলে থাকলে আবার সেটা পুনরাবৃত্তি করার ক্ষেত্রে পূর্ণ কথা বলতে হবে। পূর্ণ কথা
না বললে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
.
১৮. কারও বক্তব্য শেষ হওয়ার পূর্বেই তার কথা কেটে মাঝখানে কথা না বলা আদব।
.
১৯. নিজের কথায় ভুল হলে সেটা স্বীকার করে নেয়া এবং অপব্যাখ্যায় না যাওয়া আদব।
.
মসজিদে প্রবেশের সুন্নতসমূহ
১. বিসমিল্লাহ পড়া।
২. দরুদ শরিফ পড়া।
৩. অতঃপর এই দোয়া পড়া ‘আল্লাহুম মাফতাহলি
আবওয়াবারাহ মাতিক’।
৪. মসজিদে ডান পা আগে রাখা।
৫. ইতেকাফের নিয়ত করে প্রবেশ করা। (ইবনে মাজাহ :
১/৫৬; মেশকাত : ১/৪৬; শামী : ২/৪৪৩)
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নতসমূহ
১. বিসমিল্লাহ পড়া।
২. দরুদ শরিফ পড়া।
৩. অতঃপর এই দোয়া পড়া ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকা মিন্ফাদলিক’
৪. মসজিদের বাইরে বাম পা আগে রাখা, ৫. অতঃপর প্রথমে
ডান পায়ে জুতা পরা। তারপর বাম পায়ে পরা। (ইবনে
মাজাহ : ১/৫৬; তিরমিজি : ১/৭১; ই’লাউস সুনান :
১/৩২৩; মেশকাত : ১/৪৬)
.
মসজিদে যেসব কাজ নিষিদ্ধ
১. মসজিদে দ্বীনের কথা বা কাজ ব্যতীত অন্য কথা বা কাজ করা নিষেধ। (মুসলিম : ১২৮৮)
২. মসজিদে দুর্গন্ধময় কোনো জিনিস নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। (মুসলিম : ১২৮০)
৩. মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। (তিরমিজি : ৩২৩)
৪. মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলা যাবে না। (মেশকাত : ৬৮৯)
৫. মসজিদে অপরাধীর শাস্তি ও শাসন করা যাবে না (আবু দাউদ : ৪৪৯২)
৬. মসজিদে রাজনৈতিক মিটিং করা মসজিদের আদবের খেলাপ। (ফাতাওয়া রহিমিয়া : ৬/১০৫)
৭. মসজিদের ভেতরে প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজ একই স্থানে আদায় করার জন্য কেউ স্থান নির্দিষ্ট রাখতে পারবে না।
যে যেখানে এসে প্রথমে স্থান নেবে, সে সেখানে নামাজ আদায় করবে। একে অন্যকে উঠিয়ে বসা যাবে না।
(রদ্দুল মুহতার : ১/৬৩০)
.
গোসলের সুন্নাত ও আদব
.
১. ফরজ গোসলের আগে পেশাব করে নিবে।
২. ওজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়বে।
৩. কাপড় বা শরীরের কোন স্থানে নাপাক ময়লা লেগে থাকলে
তিনবার ধুয়ে তা পরিস্কার করবে।
৪. নাপাক লাগা থাকুক বা না থাকুক উভয় অবস্থায়
লজ্জাস্থান ধৌত করা। অতঃপর উভয় হাত ধৌত করা।
৫. উভয় হাত কব্জিসহ পৃথক পৃথক ভাবে ধুয়ে নেওয়া।
৬. সর্ব প্রথম মাথায় পানি ঢালবে।
৭. তারপর ডান কাঁধে পানি ঢালবে।
৮.তারপর বাম কাঁধে পানি ঢালবে।
৯. তারপর বাকি সমস্ত শরীর ভিজানো।
১০. সমস্ত শরীর এমনভাবে পানি পৌঁছানো যেন একটা
পশমের গোড়াও পানি বিহীন শুকনা বাকি না থাকে।
১১. গোসলের আগে সুন্নত তরিকায় ওজু করা।
১২. হাত দ্বারা সমস্ত শরীর ঘসে-মেজে ধৌত করা।
পেশাব পায়খানার সুন্নাত সমূহ
.
১. বাথরুমে যাওয়ার সময় এই দু‘আ পড়বে।
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবাইছ।
২. বাথরুমে সর্ব প্রথম বাম পা ঢুকাবে।
৩. বাথরুমে জুতা বা সেন্ডেল পরিধান করবে।
৪. মাথা ঢেকে বাথরুমে প্রবেশ করবে।
৫. পেশাব পায়খানার জন্য নির্ধারিত কোন জায়গা না থাকলে খোলা মেলা কোন জায়গায় বসলে এমনভাবে বসতে হবে যেন কারও নজরে সতর না দেখা যায়।
৬. পেশাব পায়খানা দাঁড়িয়ে না করে বসে করা।
৭. পানি ব্যবহার করার আগে ঢিলা কুলুখ বা টিসু পেপার ব্যবহার করা।
৮. বসার নিকটতম হয়ে সতর খুলবে এবং কিবলার দিকে মুখ ও পিঠ দিয়ে বসবে না।
৯. পেশাব ও নাপাক পানির ছিঁটা থেকে বেঁচে থাকবে।
১০. ঢিলা খুলুখ ও পানি বাম হাত দ্বারা ব্যবহার করবে।
১১. ঢিলা খুলুখ ব্যবহার করার পর পানি ব্যবহার করবে।
১২. পেশাবের ফোঁটা আসা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সামান্য চলা ফেরা করবে।
১৩. পেশাব নরম স্থান বা এমন জায়গায় করবে যেখান থেকে পেশাবের ছিঁটা উপরে উঠে শরীর নাপাক হবে না।
১৪. বের হয়ে এ দু‘আ পড়বে।
উচ্চারণঃ গোফরানাকা আলহামদুলিল্লাহীল্লাজী আজহাবা আন্নীল আযা ওয়া আ ফানী।
.
১৫. ইস্তিঞ্জা থেকে ডান পা দিয়ে বের হবে।
.
১৬. ইস্তিঞ্জায় প্রবেশের আগে কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম রাসূল সা. এর নাম লেখা আংটি খুলে প্রবেশ করবে।
.
১৭. বসে বসে পেশাব করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.