নাজিশ ব্যবসা হারাম

কোন কোন ব্যক্তিকে এমনও করতে দেখা যায় যে, সে ব্যবসায়ীর উপকার করতে চায় এবং সে বিক্রেতার কাছ থেকে মাল নিজের আয়ত্বে নিয়ে নেয় এরপর সে লাভের জন্য মালের দাম বাড়িয়ে দেয় এই ধারণায় যে, এতে বিক্রেতার
উপকার হবে। অথবা কথনও এরূপ দেখা যায় যে, এক ব্যবসায়ী অন্যান্য সকল ব্যবসায়ীর সাথে একমত হয় যে তারা সকলে মালের মূল্য বৃদ্ধি করবে। যাতে মানুষ চড়া দামে কিনে নেয়। এটাও নাজেশ এবং হারাম। কেননা এতে
মুসলমানদের ধােকা দেয়া হল এবং এর দ্বারা উপার্জিত অর্থ নিকৃষ্ট উপার্জন বলে
ইসলামের দৃষ্টিতে বিবেচ্য।
.
অনুরূপভাবে ইসলামী শাস্ত্রদের মতে আরেক প্রকারের নাজেশ রয়েছে। কোন
বিক্রেতা ক্রেতাকে বললাে আমি এই মালটি এত দামে কিনেছি অথচ সে
মিথ্যাবাদী। সে এজন্য এরূপ করল যাতে ক্রেতা ঠকে যায় এবং চড়া মূল্যে ঐ
মাল ক্রয় করে। অথবা নাজেশ এরূপও হতে পারে যে, বিক্রেতা বললাে আমাকে
দেয়া হয়েছে বা আমাকে এই মাল এত দামে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে অথবা সে বলে
এই মালের এত দাম উঠেছে অথচ সে মিথ্যা বলেছেন তার অভিপ্রায় এটাই যে,
ক্রেতাদের ঠকাবে এবং ক্রেতাগণ তার মিথ্যা মূল্যের উপর দাম বাড়াতে থাকবে।
উপরােক্ত সকল প্রকার নাজেশ এর বিরুদ্ধে মহানবী (সা) স্পষ্টভাবে নিষেধ
করে দিয়েছেন যে, কারণ এটা হল বিশ্বাসঘাতকতা, মুসলমানদের সাথে প্রতারণা
করা, মিথ্যা, ঠকবাজী করা। নিশ্চয় যে, এরূপ করবে কেয়ামতের দিন আল্লাহর
নিকট তার হিসেব দিতে হবে।
.
এমতাবস্থায় একজন ব্যবসায়ীর যা করণীয় তা হলাে ক্রেতা যখন মাল সম্পর্কে
প্রশ্ন করবে যে, কত দামে কিনেছে তখন সে সত্য জানিয়ে দিবে এবং যা দাম তা
বলে দিবে সে যেন এরূপ না বলে আমি এই মালের এত দাম দিয়েছি অথচ সে
মিথ্যা বলেছে। অনুরূপভাবে এটাও নাজেশ এর অন্তর্ভুক্ত যদি বাজারের সকল
ব্যবসায়ী বা সকল দোকানদার একমত হয় যে, আমদানীকারী যখন মাল আমদানী
করে তখন তারা একে অন্যের উপর অন্যায়ভাবে দাম বাড়িয়ে নেবে না। যাতে
শেষে আমদানীকারককে কম দামে মাল বিক্রয় করতে হয়। এই ধরণের
কার্যকলাপও নাজেশের অন্তর্ভুক্ত এবং হারাম। এর ফলে মুসলমানদের অর্থ সম্পদ
অন্যায় ভাবে ভক্ষণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.