নারী নির্যাতন

যুগে যুগে নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে।
এক্ষেত্রে আমরা তিনটি যুগে বিভক্ত করে আলােচনা করব।
যেমন- (ক) জাহেলী যুগে নারী নির্যাতন।
(খ) মধ্য যুগে নারী নির্যাতন এবং
(গ) আধুনিক বা বর্তমান যুগে নারী নির্যাতন।
নিয়ে বিভিন্ন যুগে নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হল।
.
(ক) জাহেলী যুগে নারী নির্যাতন :
প্রাক-ইসলামী যুগে অর্থাৎ জাহেলী যুগে নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে মহান আল্লাহ বলেন,
وإذا بشر أحدهم بالأنقي ظل وجهه مسودا وهو كظيم يتوارى من القوم من
شوء ما بشر به أنه على څون أم يدشه في التراب ألا ساء ما يخون.
‘তাদের কাউকে যখন কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়,
তখন তার মুখমণ্ডল কালাে হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্রিষ্ট হয়।
তার গ্রানী হতে বাঁচার জন্য সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগােপন করে।
সে চিন্তা করে, অপমান সত্ত্বেও মেয়েকে রেখে দিবে, না-কি মাটিতে পুঁতে দিবে?
সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত করে তা কতই না নিকৃষ্ট’ (নাহল ১৬/৫৮-৫৯)।
অত্র আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, জাহেলী যুগে যারা নারী হিসাবে জন্মগ্রহণ করত
 তাদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার ছিল না।
অপরাধ শুধু কন্যা সন্তান হিসাবে জন্ম নেওয়া। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন,
وإذا الموعود شيله بأي ذنب لث.
‘যখন জীবন্ত প্রােথিত কন্যাদের জিজ্ঞেস করা হবে, কী অপরাধে তাদের হত্যা করা হয়েছিল?
(তাকভীর ৮১/৮-৯)। অত্র আয়াত দ্বারা বুঝা যায়,
জাহেলী যুগে জীবন্ত কন্যা সন্তানদের কবরস্থ করা হত।
মানুষ কতটা নির্মম, নিষ্ঠুর ও কঠোর হৃদয়ের হলে ফুটফুটে নয়ন মণি সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতে পারে? ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়া অনেকটাই সহজ,
কিন্তু জীবন্ত অবস্থায় করে থাকা যে কত কষ্টকর তা ভাবাই যায় না।
মাটি চাপা পড়ে একটা জীবন্ত মানুষের
শ্বাস বন্ধ হয়ে ধুকে ধুকে মারা যাওয়ার কাহিনী স্মরণ করতেই অন্তর ডুকরে কেঁদে উঠে।
জাহেলী যুগে কন্যা সন্তান মাত্রই পিতা-মাতা জীবিত রাখার পরিকল্পনা করতে পারত না।
এরই মাঝে যারা বেঁচে থাকত তাদের অত্যন্ত কষ্ট সহকারে বেঁচে থাকতে হত।
জাহেলী যুগে নারীদের পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক
কোনভাবেই কোন মর্যাদই ছিল না। চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় তাদেরকে ব্যবহৃত সম্পদ মনে করা হত।
তাদের খানা-পিনা ও পােশাক-পরিচ্ছদেও কোন মান- মর্যাদা ছিল না।
এমনকি পুরুষের জন্য এমন কিছু জিনিস নির্দিষ্ট ছিল, যা
নারীদের জন্য হারাম ছিল। মহান আল্লাহ বলেন,
وقالوا هو أنعام وخر حجر لا يظعها إلا من تشاء بغيهم وأنام حرمث
وها وأنه لا يذكرون اسم الله علیها افتراء عليه يجزيهه بما گائوا
يفترون – وقالوا ما في بطون هذه الأنعام ځاله لگورتا و على أزواجا
وإن يكن من فهم فيه شراء سيجزيهم وصفهم إنه كيم عليم
তারা তাদের ধারণা অনুসারে বলে, এসব গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ।
আমরা যাকে ইচ্ছা করি সে ব্যতীত কেউ এসব আহার করতে পারবে না এবং
কতক গবাদি পত্র পৃষ্ঠে আরােহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কতক পশু যবেহ করার
সময় তারা আল্লাহর নাম নেয় না। এ সমস্তই তারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনার
উদ্দেশ্যে বলে; তাদের এই মিথ্যা রচনার প্রতিফল তিনি অবশ্যই তাদেরকে দিবেন।
তারা আরও বলে, এইসব গবাদি পত্র গর্ভে যা আছে তা আমাদের পুরুষদের জন্য
নির্দিষ্ট এবং ইহা আমাদের স্ত্রীদের জন্য অবৈধ। আর উহা যদি মৃত হয়, তবে
সকলেই তাতে অংশীদার। তিনি তাদের এরূপ বলার প্রতিফল অচিরেই দিবেন;
নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ (আন’ আম ৬/১৩৮-১৩৯)।
শুধু তাই নয়, জাহেলী যুগে নারীরা মীরাহ তথা সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হত ।
ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেন, ‘জাহেলী যুগের লােকেরা নারী ও শিশুদেরকে উত্তরাধিকারী করত না।
এমনকি পুত্র সন্তান হলেও। তারা বলত, মীরাছ কেবল তাকেই দেওয়া হবে,
যে অশ্বপৃষ্ঠে আরােহণ করে, তরবারী দ্বারা যুদ্ধ করে, বর্শা দ্বারা আঘাত করে এবং গণীমত লাভ করে।
আধুনিক মুফাসসির শায়খ নাহীর সা’দী (রহঃ) বলেন,
জাহেলী যুগে আরব তাদের শক্তিমত্তা ও নির্দয়তার কারণে দুর্বলদেরকে উত্তরাধিকার করত না।
যেমন নারী ও শিশু।

Leave a Reply

Your email address will not be published.