পুরুষরা নারীদের হাতে নির্যাতিত

বহুকাল থেকে একটা কথা চলে আসছে যে, নারীরা পুরুষের হাতে নির্যাতিত, কিন্তু বর্তমানে সেই সাথে পুরুষরাও হচ্ছে নারীদের হাতে নির্যাতিত । পুরুষরা বিভিন্নভাবে নারীদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে । যেমন-
.
(১) শুধু যে নারীরা স্বামীর ঘরে নির্যাতিত হচ্ছে তাও নয়, বরং বর্তমানে রুষরাই বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। এমন কিছু নারী আছে, যারা স্বামী পক্ষের ত্মীয় স্বজনকে মােটেও সহ্য করে না। বিশেষ করে শাশুড়ী-শ্বশুড়কে মােটেও নে নিতে পারে না। পুরুষ নিজের মানসম্মান রক্ষার জন্য স্ত্রীর কথামত াাাাতা-মাতা থেকে আলাদা হয়ে সংসার করে। অন্যদিকে পিতা-মাতা মনে করে আমার ছেলে আমাদেরকে মানে না। আমাদের সাথে অসদাচরণ করছে। ফলে
তারও কষ্ট অনুভব করে। কি করবে নিরুপায় হয়ে পুরুষটা নিজের কষ্ট নিজের
বুকে চাপা দিয়ে সংসার করে । কখনও কখনও হয়তােবা সংসার ভেঙ্গে যায় ।
তখন দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে চলতে আরও কঠিন বিপদের মধ্যে পড়তে হয়। তখন
এই বিপদের ঘনি পুরুষকে একাই টানতে হয়।
.
(২) উপার্জনের ক্ষেত্রেও পুরুষরা নারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার। যেহেতু বর্তমানে নারীদের অগ্রাধিকারের কারণে বহু পুরুষ বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছে। দেখা যাচেছ স্ত্রী চাকুরী করে আর স্বামী বেকার । কিংবা স্বামী-স্ত্রী
উভয়ই চাকুরী করে ফলে উভয়ই প্রভাব খাটাতে চায়। কেউ কাউকে মানে । পুরুষ তার স্ত্রীকে যদি বলে আমার এই কাজটা একটু করে দাও। তার উত্তর তখন হয়, কেন আমি কি তোমার সংসারে বসে খাই না-কি? তুমি কি
আমাকে বসে খেতে দাও? ফলে দুজনের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শুরু হয়
তুমুল ঝগড়া। সেই ঝগড়ার জের ধরে স্ত্রী রাগ করে বাবার বাড়ি চলে যায় ।
ফলে দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হয় জাহান্নামের অশান্তি। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী স্বামীর
বিরুদ্ধে যৌতুক, নারী নির্যাতন ও বিভিন্ন ভাবে মামলা করে। এবার স্বামী ঘর
ছাড়া পরিবার ছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়ায় । এভাবে প্রতিনিয়তই পুরুষরা স্ত্রীদের
হাতে নির্যাতিত হচ্ছে। কিন্তু কেউই বলে না যে, পুরুষরা নির্যাতিত হচ্ছে ।
.
(৩) পরকিয়ার কারণেও পুরুস্করা বেশ ভালই নির্যাতিত হচ্ছে। বিদেশে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে দেশে স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠায় । মাথার ঘাম পায়ে ফেলা টাকা নিয়ে স্ত্রী অন্য পুরুষের সাথে পালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশে বসে একজন পুরুষ
যখন এই খবর শুনে তখন তার কেমন লাগে। ভাবতেই গা শিউরে উঠে কি
পরিমাণ মানসিক আঘাত পেতে পারে পুরুষটি। এভাবে আজ পরকীয়ার
কারণে হাযার হাযার পুরুষ নির্যাতিত ।
.
(৪) সাংসারিকভাবে পুরুষরা আরও একটি নির্যাতনের শিকার। তা হচ্ছে, একজন যুবক বিবাহ করার সময় লক্ষ্য করে যে, কে তাকে অধিকহারে যৌতুক দিবে? যে অধিকহারে যৌতুক দিবে তার মেয়েকে বিবাহ করবে। ফলে উক্ত স্ত্রী সাংসারিক জীবনে কথায় কথায় বলে আমার বাবা টাকা দিয়ে জামাই কিনেছে। কারাে মায়ের
কথা শুনতে রাষী নই। ফলে স্ত্রী শ্বশুড়-শাশুড়ী, ননদ কারাে সাথে ভাল ব্যবহার
করে না। এদিকে পিতা-মাতা ছেলের নিকট অভিযােগ করে। ছেলে একবার স্ত্রীর
হাতে নির্যাতিত আর একবার পিতা-মাতার কষ্টে অনুতপ্ত। ছাড়তেও পারে না।
গিলতেও পারে না। ছাড়লে মােহর-যৌতুক সব কিছু ফিরিয়ে দিতে হবে।
.
(৫)পুরুষ নির্যাতনের প্রচার এত বেশী হয়েছে যে, আজ-কাল নারীরা যখন তখন যেকোন পুরুষকে নারী নির্যাতনের কেস দিয়ে ফাসিয়ে দিচ্ছে। যেখানে সেখানে নিরপরাধ পুরুষের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মিথ্যা অভিযােগ তুলে
নির্যাতন করা হচ্ছে। স্বামী, শশুর,শাশুড়ীর সাথে হট্টগােল পাকিয়ে নিজে
থেকে খােলা তালাক দিচ্ছে আবার পুরুষের বিরুদ্ধে কেসও করছে স্বামী
শশুরের নামে।
.
(৬) নতুন আর একটি পুরুষ নির্যাতনের উদ্ভব হয়েছে। তাহল একজন পুরুষ সুস্থ সবল বাড়িতে বসে থেকে যুবতী স্ত্রীকে বিদেশে পাঠাচ্ছে নিজের জমি জায়গা বসত ভিটা বিক্রয় করে। ঐদিকে স্ত্রী নিজের ইযযত-সম্ভম বিলিয়ে
দিচ্ছে টাকা ইনকাম করে নিজের নামে জমা করছে। সময় শেষে দেশে ফিরে
এসে উক্ত স্ত্রী আর আগের স্বামী গ্রহণ করছে না। আবার অনেক সময় দেখা
যায় স্বামী আর একজন স্ত্রী গ্রহণ করেছে। ফলে উক্ত পরিবারে কলহ লেগে
একপর্যায়ে স্ত্রী পক্ষ বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে কেস করে জেল হাজতে
পাঠায়। এভাবে আজ কাল পুরুষরাও নির্যাতনের শিকার হতে নিরাপদ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.