প্রতারণা পূর্ণ ব্যবসা হারাম

এর অর্থ এই যে, হে ব্যবসায়ী মুসলিম ভাই! আপনি আরেক মুসলিম ভাইকে এমনভাবে ধােকা দিচ্ছেন যে,
আপনি তার নিকট এমন এক ক্রটি পূর্ণ মাল বিক্রি করলেন যার ক্রটি সম্পর্কে আপনি জ্ঞাত
অথচ তাকে আপনি সে ক্রটি সম্পর্কে জানালেন না।
অতএব এরূপ ব্যবসা শরীয়তে বৈধ নয় এবং ইহা হারাম কেননা
ইহা ধােকা, প্রতারণা এবং ঠকবাজী পূর্ণ ব্যবসা।
.
এমতাবস্থায় বিক্রেতার প্রতি ওয়াজিব বা অবশ্য করণীয় যে,
তিনি যেন ক্রেতার নিকট মালের ক্রটি বর্ণনা করে দেন এবং ক্রেতার ও মালের ক্রটি সম্পর্কে জানা হয়ে যায়।
যদি এরূপ হয় তবে সেটা ধােকা এবং ঠকবাজী পূর্ণ ব্যবসা হয়ে গেল যা মহানবী (সা) নিষেধ করেছেনঃ-
.
ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের ক্রয়-বিক্রয়ে অধিকার রয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত উভয়ে পৃথক না হয়। এই সময়ের মধ্যে যদি উভয়ে সত্য বলে এবং বিক্রেতা দোষ বর্ণনা করে এবং ক্রেতাও দোষ সম্পর্কে জানতে পারে (তদুপরি কেনাবেচা হয়। তবে এই ব্যবসায়ে বরকত দান করা হয় (আল্লাহর পক্ষ হতে)। আর যদি উভয়ে মিথ্যা বলে এবং মালের ক্রটি গােপন করে, তবে সেই ব্যবসা হতে বরকত মুছে যায়।”
.
অতএব হে আমার মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দ আমাদের প্রতি এটা ওয়াজিব যে, আমরা
যেন উপদেশ (নসীহত) গ্রহণকারী হই। মহানবী (সা) বলেছেনঃ
قال رسول الله صلي الله عليه وسلم الدين الصيح الدين
النصيحة الدين النصيحة لنا لمن يا رسول الله قال لله
ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم
“ধর্ম হচ্ছে উপদেশ, ধর্ম হচ্ছে উপদেশ, ধর্ম হচ্ছে উপদেশ। সাহাবীগণ বললেন কার জন্য?
রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আল্লাহর জন্য তার কিতাবের জন্য,
তার রাসূলের জন্য এবং মুসলিম সমাজের জন্য এবং সকলের জন্য।”
অতএব একজন মুসলিমের এটা উচিৎ যে সে যেন নসীহত গ্রহণকারী হয়
এবং কোন বিষয়ে নসীহত গ্রহণকারী হওয়ার অর্থ হল-সে বিষয়ে একনিষ্ঠ হওয়া।
কারণ নসীহত অর্থ হল ধােকাবাজি হতে বিশুদ্ধ হওয়া ।
যেমনঃ আরবী পরিভাষায় এর অর্থ হল ভেজালমুক্ত বিশুদ্ধ দুধ।
.
وقد مر رسول الله صلي الله عليه وسلم علي بائع طعام في السوق عنده صبرة من طعام أي ځوم من طعام فخل النبي صلي
الله عليه وسلم يده الشريفة في الطعام فوجد بللا في اسفله وقال ما هذا يا صاحب الطعام؟ قال أصابته السماء يا رسول الله – أي
أصابه المطر قال أفلا جعلته ظاهرا حتي يراه الناس من غشنا فليس مثاه
.
একদা মহানবী (সা) বাজারে খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সে সময় ঐ বিক্রেতার নিকট এক স্তুপ খাদ্যদ্রব্য ছিল। মহানবী (সা) ঐ স্কুপের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলেন, তাতে ভেতর দিকে আদ্রতা বা ভেজা ভেজা অনুভব করলেন।
মহানবী (সা) বললেন “হে খাদ্যের মালিক এটা কি?” (অর্থাৎ ভেতর দিক ভেজা ভেজা কেন?) লােকটি বললাে বৃষ্টিতে ভিজে গেছে হে রাসূলুল্লাহ (সা)। মহানবী (সা) বললেন ? তাহলে তুমি ভেতরের দিকটা প্রকাশ করে দেবেনা যাতে ক্রেতা বুঝতে পারে। যে ধোকাবাজি করে সে আমার উম্মত নয়
এই হাদীসটি মুসলমানদের ব্যবসায়িক রীতিনীতির অন্যতম রীতি হিসেবে গণ্য। অতএব কোন মুসলমান ব্যবসায়ীর উচিৎ নয় যে, সে তার মালের ত্রুটি গােপন করে রাখে। যদি তার মালে কোন ত্রুটি থাকে তবে সে যেন তা প্রকাশ
করে দেয় যাতে ক্রেতা তা দেখতে পারে তবে ক্রেতা ও দর্শনকারী হয়ে যাবে। এই ত্রুটির কারণে একটি উপযুক্ত মূল্যে ঐ মাল পেয়ে যাবে। কিন্তু যদি ক্রেতা ক্রটি দেখতে না পেয়ে বিক্রেতা ক্রেতার কাছ থেকে ভালাে মালের দাম নেয় তবে তা ধােকা, প্রতারণা ও ঠকবাজী ব্যবসা হয়ে যাবে। মহানবী এর ভাষ্যঃ “তুমি কি
তােমার মালের ক্রটি প্রকাশ করে দেবে না যাতে ত্রেতা তা দেখতে পায় ।
যে ঠকবাজী করল সে আমার উম্মতে যুক্ত নয়।”
হে মুসলিম ভাইবৃন্দ! লক্ষ্য করুন আজ বহু রকমের ঠকবাজী ব্যবসা চলছে। ত্রুটিপূর্ণ মালকে নীচে রেখে দিয়ে উপরে ভাল মাল দিয়ে কি রকম ভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। সেটা শাক-সজি হােক কিংবা খাদ্য। ব্যবসায়ীগণ
ইচ্ছাকৃত ভাবে ত্রুটিপূর্ণ মালকে নীচে রেখে দেয় এবং ভাল মালগুলিকে উপরে
রেখে ইচ্ছাকৃত ভাবে ঠকবাজী ব্যবসা করে যাচ্ছে।
আমরা আমাদের জন্য এবং আপনাদের জন্য আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা মার্জনা এবং নিরাপত্তার প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের রিযিককে হালাল করে দেন। এবং আমাদের উপার্জনকে হালাল করেন। এবং তার অফুরন্ত ফজল ও করমের ফলে রিযিককে হালাল করে দেন। আল্লাহ তােমার হালাল রুজি দ্বারা আমাদের হারাম
রুজি থেকে বিরত রাখ এবং তােমার অনুগ্রহ ছাড়া অন্যের অনুগ্রহ থেকেও
আমাদের বিরত রাখ।
হে প্রভু : আমাদের ক্ষমা কর। আমাদের প্রতি দয়া কর । আমাদের তওবা কবুল কর। নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী দয়ালু । আল্লাহ পাক নবী (সা) এর উপর তার সাহাবীদের উপর দয়া ও সালাম বর্ষণ করুন।
-আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.