ফরজ গােসলের / সুন্নত গোসলের নিয়ম

গােসলের বিবরণ
গােসল এটা আরবী শব্দ-এর অর্থ হল ধৌত করা কিন্তু শরীয়তের পরিভাষায় সব ধরনের ধৌত করাকেই গােসল বলা হয় না, বরং পবিত্র।
পানি দ্বারা সমস্ত শরীর ধৌত করাকে গােসল বলা হয়।
গােসল তিন প্রকার (১) ফরজ গােসল, (২) সুন্নাত গােসল (৩) মুস্তাহাব গােসল।
.
যে কোরণে গােসল করা ফরজ
* যৌন সম্ভোগ বা কামােদ্দীপনার সাথে বা হস্ত মৈথুন দ্বারা বীর্যপাত হলে।
* স্ত্রীলােকের গুপ্তাঙ্গের খতনার স্থান পর্যন্ত প্রবেশ করলে, বীর্যপাত হােক বা না হােক।
* দিবা নিশির যে কোন সময় ঘুমন্ত অবস্থায় বীর্যপাত হলে।
* মেয়েদের হায়েজ ও নিফাস বন্ধ হলে গােসল করা ফরজ।

সুন্নত গােসল

চারটি কারণে গােসল করা সুন্নত।
(১) শুক্রবার দিন ছুবহে সাদেকের পরে জুমার নামাজের জন্য গোসল করা সুন্নত।
(২) উভয় ঈদের নামাজের জন্য ।
(৩) হজ্জ শেষে আরাফার দিনে পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর গােসল করা সুন্নত।
(৪) গহজ্জের নিয়তে ইহরাম বাঁধার জন্য গােসল করা সুন্নত। মুস্তাহাব গোসল গােসলের ফরজ তিনটি
১। গড় গড়া সহ উত্তম রূপে কুলি করা। কিন্তু রােযাদার হলে গড় – গড়া করবে না।
২। নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছান।
৩। সমস্ত শরীর ভালভাবে ধৌত করা। যাতে শরীরের কোথাও এক চুল পরিমাণ জায়গা শুক না থাকে যদি এ তিনটি জিনিসের কোন একটির সামান্যতম জায়গাতেও যদি পানি না পৌঁছে তবে তার ফরজ গােসল আদায় হবে না, এবং ঐ জাতীয় গােসলের পর নামাজ পড়লে নামাজও আদায় হবে না।

গােসলের সুন্নত

গােসলের সুন্নত মােট ছয়টি
১। গােসলের নিয়তে উভয় হাত কজি পর্যন্ত ধােয়া।
২। লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা।
৩। কাপড় বা শরীরের কোন জায়গায় নাজাসাত লেগে থাকলে গােসলের পূর্বে তা ধৌত করা।
৪। গােসলের পূর্বে ওজু করা ।
৫। সমস্ত শরীর তিনবার ধৌত করা।
৬। গােসলখানায় যদি পানি বা কাদা জমে থাকে তবে অন্য স্থানে। সরে গিয়ে পা ধৌত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.