বিভিন্ন ধরণের হারাম চিত্তবিনােদন ও বাদ্যযন্ত্র

ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্মে কোন বিষয়ে কোন বাড়াবাড়ি নেই । কিন্তু যা কিছু ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, সম্পদ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর তা ইসলাম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য। তেমনি একটি নিষিদ্ধ ব্যবসা হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের বাদ্যযন্ত্র ও চিত্ত বিনােদনের বিভিন্ন উপকরণ।

.
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম জাওযী (র) তার বিখ্যাত তালবিসুল ইবলিস নামক গ্রন্থে মানুষের জন্য শয়তানের পক্ষ হতে যতগুলি উপহার যা মানুষকে সত্য ও সুন্দর সাবলীল পথ হতে ভ্রষ্টতা, বক্রতা ও ক্ষতিকর অসুন্দর পথে নিয়ে যায় তার
একটি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আর তার মধ্যে তিনি বিস্তারিত আলােচনা করেছেন কিভাবে মানুষের মধ্যে এ যন্ত্রগুলি ও এর ব্যবহারে মানুষ কিভাবে তার আত্মা ও জীবনকে কলুষিত করার মাধ্যমে নিজেকে মানুষের সম্মান আশরাফুল মাখলুকাত থেকে পশুর ও অধম হিসেবে নিজ প্রতিপালকের দরবারে নিজেকে উপস্থিত করছে।
.
ইসলাম বিজ্ঞানকে অস্বীকার বা অগ্রাহ্য করে না। একমাত্র বিজ্ঞানকে সমর্থন কারী ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। এর পূর্বে যারাই বলেছে যে, সূর্য ঘুরছে তাকেই জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আর খ্রীষ্টান ও ইহুদীদের মধ্যে তা ধর্মদ্রোহের শাস্তি বলেই
বিবেচিত ছিলাে। তাইতাে আমরা দেখতে পাই যে, বিজ্ঞানী কোপার্নিকাসকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মরতে হলাে, বিজ্ঞানী গ্যালিলিও প্রমাণ করার পরও শুধুমাত্র জীবনের ভয়ে পােপের সামনে বলতে বাধ্য হলাে পৃথিবী ঘুরে না। কিন্তু মৃত্যুকালে যখন বিড়বিড় করছিলাে সেখানে উপস্থিত নার্স তার মুখের নিকট কান রাখলে সে শুনতে পেল বিজ্ঞানী গ্যালিলিও বিড়বিড় করে বলছে ঃ পৃথিবী ঘুরে, স্থীর নয়। এ ছিলাে তাঁর মৃত্যুকালীন শেষ কথা যা জীবনে তিনি কখনােই বলতে পারে নি। কিন্তু আজ যখন মানুষ বিজ্ঞানের জয় জয়কার দেখতে পায় তখন তার মূল
ইতিহাসের ধারাকে ভুলে গিয়ে তাদের কথাই তারা তােতা পাখির মতাে আওড়াচ্ছে যারা তখনাে কাঠের ঘরে থাকা ও গােসল না করাকে ধর্মীয় নির্দেশ বলে মনে করতাে আর তখন মুসলমানরা রাজকীয় প্রাসাদে এবং গােসল করার জন্য নিজস্ব বিজ্ঞানসম্মত সাবান আবিষ্কার করে তা দ্বারা গােসল করাকে নিজেদের সংস্কৃতি বলে পরিচয় দিচ্ছিলাে।
.
ইসলাম মানুষের চিত্ত বা মনের আনন্দ প্রকাশ করার জন্য নির্দিষ্ট স্থান, নির্দিষ্ট
রীতি ও নির্দিষ্ট নিয়ম বাতলে দিয়েছে যার বিপরীত করার অর্থ হলাে মানব জাতির
অকল্যাণ ও ক্ষতির দরজা খুলে দেয়া। ইসলাম পূর্ব মানব ইতিহাস পর্যালােচনায়
দেখা যায় যে, তারা সঙ্গীত বিভিন্ন উদ্দেশ্যে রচনা করতাে এবং তারা বিশেষতঃ
নিজেদের চিত্ত বিনােদনের উদ্দেশ্যে এ সব কিছুর আবিষ্কার করেছিলাে। কিন্তু
ইসলাম মানুষকে এমন সব বস্তু দ্বারা আনন্দ উপভােগ করা হতে নিষেধ করেনি যা
মানুষকে ইবাদত, তার প্রভূর অর্চনা বা তার প্রভূর আদেশ নিষেধকে বেমালুম ভুলে
গিয়ে শুধু মাত্র চিত্তের পুজারী হয়ে থাকবে। পূর্ব যুগে যতগুলি সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে
তার মধ্যে যে কারণটি প্রধান হয়ে দাড়িয়ে ছিলো তা হচ্ছে সময়ের প্রতি অবহেলা
দেখানাে। আর আজ এ কথা বাস্তব সত্য যে, নিজ প্রবৃত্তির ইচ্ছা সাধন মানুষকে
যতটুকু সময়ের প্রতি অবহেলা হতে সাহায্য করে তেমনি আর কোন বস্তু নয় ।
মিসরিয় সভ্যতা, মেসােপটেমিয় সভ্যতা, গ্রীক সভ্যতা, রােমান সভ্যতা এবং আক্তা
যে সমস্ত পুরাতন সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে তার একমাত্র কারণ সে সময় সাধারণ
মানুষ হতে রাজন্য বর্গপর্যন্ত নিজেদের চিত্ত বিনােদনে ব্যস্ত ছিলাে যার কারণে অন্য
একটি জাতির দ্বারা তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলাে।
.
ইসলাম এমন সমস্ত ব্যবস্থা যা চিত্তকে আল্লাহর ইবাদত থেকে এবং ইসলামী
রীতি-নীতি হতে বিরত থাকে এবং যার দ্বারা মানুষ নিজের অস্তিত্ব ধ্বংস করে
ফেলতে পারে সে সকল বিষয় ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। মানুষ হয়তাে মনে
করতে পারে যে, এটা ঠিক নয়। কিন্তু আজ বিজ্ঞানের আলােকে প্রমাণিত যে,
বেশী সময় টিভি, দেখলে আপনি শুধু শারিরিক অসুখ নয় বরং মানষিক অসুখেও
পড়তে পারেন। সে জন্য ইসলাম যা মানবজাতির নিজের এবং তার অর্জিত
সম্পদকে ধ্বংস করে দেয় তা যেমন নিজের জন্য নিষিদ্ধ করে তেমনি তার
ক্রয়-বিক্রয় ও নিষিদ্ধ করে। যেমন ও বিভিন্ন ধরণের সংগীত যন্ত্রাদি অথবা
সুগন্ধীযুক্ত কাঠ যেমন ঃ চন্দন এবং গান গাওয়ার জন্য যেসব সাজ সরঞ্জামের
প্রয়ােজন হয়। এতদ্ব্যতীত চিত্তবিনােদনের বিভিন্ন সামগ্রী ও খেলার সামগ্রী যাতে
শারীরিক কোন উপকারীতা নেই। আপনি যদি ফুটবল বা ক্রিকেট বা এমন কোন
খেলা খেলেন যা শরীরকে সুস্থ রাখে তাহলে তা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। কিন্তু যদি
আপনি লুডু, বা দাবা বা এমন সামগ্রীর খেলা খেলেন যা আপনার কোন উপকারে
আসে না তা তাহলে জানবেন তা আপনার ক্ষতির সামগ্রী হিসেবে ইসলাম নিষিদ্ধ
করেছে।
.
আজকাল শিশুরা টি, ভি, গেমস খেলায় বেশ আনন্দ পায় কিন্তু আপনি একজন পিতা হয়ে কি লক্ষ্য করেছেন যে, আপনার শিশুর এই খেলায় মানসিক বিকাশ কতটুকু হচ্ছে। প্রাইভেট টিউটর রাখার পরও আপনার ছেলে এমন ফলাফল করতে ব্যর্থ হচ্ছে যা অন্য একটি ছেলে করছে যে কখনও টি.ভি গেমস খেলে না। তার অর্থ কি কখনও চিন্তা করেছেন। আমাদের মস্তিষ্ক একটি খালি ক্যাসেটের মত । তার মধ্যে যা আপনি রেকর্ড করবেন তা রেকর্ড হতে থাকবে। কিন্তু তাতে যদি ভালর বদলে মন্দ রেকর্ড করে দেয়া হয় তাহলে সে কিভাবে আপনার জন্য ভাল
কিছু উপহার দিতে পারে? এটা তাে আমড়া গাছে আম তালাশ করার মত ? অতএব এ সমস্ত যন্ত্রাদি এবং উপকরণাদি মুসলমানের জন্য ক্রয় বিক্রয় করা হারাম। মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব যে, এই সমস্ত উপকরণাদি এবং যন্ত্রাদি ধ্বংস
করে দেওয়া এবং মুসলিম দেশগুলােতে যাতে না থাকে। যদি না থাকে তবে  কিভাবে ব্যবসায়ীরা এগুলির ক্রয়-বিক্রয় করবে এবং কিভাবে এর মাধ্যমে হারাম উপার্জিত সম্পদ ব্যবহার করবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.