মোবাইলে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স সম্পকে মাসাইল জানুন

মোবাইলে টাকা শেষ হতে না হতেই ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স এর জন্য পাগল হয়ে যাই আমরা,
আসুন যেনে নেই এটা কতটুকু জায়েজ
প্রশ্নঃ মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স গ্রহণ করা কি জায়েজ হবে?
এ প্রশ্নের উত্তরে বলবো যে আমরা সবাই কম-বেশ জানি যে আমাদের মোবাইল গুলোতে যখন
ব্যালেন্স শেষের দিকে থাকে, সংশ্লিষ্ট অপারেটর আমাদের কাছে মেসেজ পাঠান যে আপনার
মোবাইলের ব্যালেন্স শেষের পথে, আপনি চাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিতে পারেন।
নিতে চাইলে *..# নাম্বারে ডায়েল করুন বা মেসেজ পাঠান।
যাইহোক এ প্রক্রিয়ার পরে তারা আমাদেরকে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স পাঠিয়ে থাকে।
মজার বিষয় হলো যে আমাদের সমাজে আজকাল কেউ কাউকে ধার দিতে চায় না।
নানা কারণে মানুষ ধার দেওয়ার প্রতি বিতস্ন হয়ে গিয়েছে।
সেখানে মোবাইল কোম্পানি আমাদেরকে সেধে ধার দিচ্ছে।
এবং আমি চাওয়ার আগে আমাকে সেধেসেধে একরকম গায়ে পরে ধার দিচ্ছে!
এর কারণ কি?
এর কারণ আমরা সবাই জানি যে এর পিছনে তাদের লাভ আছে আর
লাভ হলো তারা পরবর্তী রিচার্জের সময় অতিরিক্ত টাকা কেটে রাখেন
অথবা সাথে সাথেই অনেক সময় কেটে রাখেন।
অর্থাৎ আমি ১০ টাকা বা ২০ টাকার ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেই,
সেখানে ১ টাকা, ২ টাকা বা আট-আনা যাই হোক এটা তারা যে অতিরিক্ত কেটে রাখেন।
এটা সুদ হিসেবে গন্য হবে।
কারণ নবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিখ্যাত হাদিসে আমরা জানি –
“কুল্লু ক্বরদিন জার্রা নাফ’আন ফাহুওয়া রিবা”।
যেকোনো লোন যার বিপরীতে কোনো লাভ দেওয়া,
নেওয়া হয় সেটা সুদ হিসেবে গন্য হয়, সেটা সুদ হবে।
অতএব মোবাইল অপারেটর আমাকে ১০ বা ২০ টাকার ব্যালেন্স দিয়েছে ;
ব্যালেন্স শেষ হয়ে গিয়েছে, সেটা আমাকে ধার দিয়েছে।
আমি পরবর্তী রিচার্জের সময় পরিশোধ করবো,
পরিশোধ করার সময় অথবা আগেই আমাকে যদি সে কম দেয়
অথবা আমার কাছ থেকে যদি বেশি আদায় করে নেয় তাহলে যেই অতিরিক্ত অংশটুকু নিলো সেটা সুদ হবে।
আর সুদ দেওয়া যেমন গুনা, নেওয়া-ও তেমনি গুনা।
মুসলমানদের জন্য ;ঈমানদারদের জন্য,
কুরআন সুন্নাহর অনুসারীদের জন্য মোবাইল অপারেটর গুলো থেকে
মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেয়া জায়েজ নাই, আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে।
বাহিরের কথা বলতে পারবো না। তবে আমাদের দেশে সমস্ত অপারেটর গুলো,
সমস্ত মোবাইল কোম্পানি গুলো একই সিস্টেম ফলো করে বিধায়
মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেয়া জায়েজ হবে না।
আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দান করুক।
উত্তর দিয়েছেন,
[শায়খ আহমাদুল্লাহ্]

Leave a Reply

Your email address will not be published.