যিকির বা দু’আ সম্পর্কে আল কুরআন

১। আল্লাহর যিকিরই (স্মরণই) সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। (সূরা আনকাবূত : ৪৫)
২। তােমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তােমাদিগকে স্মরণ করিব । (সূরা বাকারা : ১৫২)
৩। যাহারা দাঁড়াইয়া বসিয়া ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহর যিকির করে তাহারা বুদ্ধিমান। (সূরা আলে ইমরান : ১৯১)
৪। হে ঈমানদারগণ! অধিক পরিমাণে আল্লাহ তা’আলার যিকির কর এবং সকাল সন্ধ্যায় তার তাসবীহ কর।
(সূরা আহযাব : ৪২)
৫। যারা অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকিরকারী পুরুষ ও নারী হবে, আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান। (সূরা আহযাব : ৩৫)
৬। সূর্যোদয়ের পূর্বে সূর্যাস্তের পূর্বে তােমার প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং রাত্রির কিছু অংশে এবং দিবাভাগের উভয় প্রান্তে, যাহাতে তুমি সন্তুষ্ট হইতে পার। (সূরা ত্বাহা : ১৩০)

যিকির বা দু’আ সম্পর্কে আল হাদীস

১. আল্লাহর যিকির এতবেশী পরিমাণে কর যেন লােক তােমাকে পাগল মনে করে। (মুসনাদে আহমাদ)
২. যে আল্লাহর যিকির করে এবং যে আল্লাহর যিকির করে না, তাহাদের তুলনা জীবিত ও মৃতের ন্যায়।
(বুখারী, মুসলিম)
৩. রাসূল সা. বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফ পাঠ করে সে তার বিনিময়ে একটি নেকি পায়; আর একটি নেকি হবে দশটি নেকির সমান আমি আলিফ লাম মীমকে একটি হরফ বলছি না। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। (তিরমিযী, সহীহ জামে সগীর ৫/৩৪০)
৪. যে গৃহে আল্লাহর যিকির হয় ও যে গৃহে হয় না, ঐ গৃহের দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃতের ন্যায় ।
(বুখারী, ফাতহুল বারী ১১/১০৮)
৫, আবদুল্লাহ ইবনে বুশর রা. থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আরয করলাে, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামের বিধি-বিধান আমার জন্য বেশী হয়ে গেছে, কাজেই আমাকে এমন একটি উপদেশ দিন, যা আমি শক্ত করে আঁকড়ে ধরবাে। রাসূল সা. জবাবে বললেন : তােমার জিহ্বা যেন সর্বক্ষণ আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে।
(তিরমিযী ৫/৪৫৮; ইবনে মাজা ২/১২৪৬)
৬. রাসূল সা. বলেছেন : আল্লাহ তা’আলা বলেন : আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা করে আমি ঠিক তেমন ধারণা করি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সাথে থাকি। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে আমিও আমার মনের মধ্যে তাকে স্মরণ করি। আর যদি সে কোন সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে এর চাইতে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি। আর সে যদি আমার দিকে অর্ধহাত এগিয়ে আসে আমি এগিয়ে আসি তার দিকে এক হাত। আর সে এক হাত এগিয়ে এলে, আমি তার দিকে দু’হাত এগিয়ে আসি । সে যদি আমার দিকে
হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (বুখারী ৮/১৭১; মুসলিম ৪/২০১১)
৭. দান হইতে যিকির উত্তম।
৮. যিকির কবর আযাব হইতে মুক্তি দেয়।
৯. যিকিরে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.