সহী ভাবে অজু কিভাবে করতে হয়

অজুর বিবরণ

অজু আরবী শব্দ। এর অর্থ হল হাতমুখ ধৌত করা। পরিচ্ছন্ন। হওয়া অজু করা (আ কাউছার পৃঃ ৫৯৪) ইসলামের পরিভাষায় নামাজ কোরআন তেলাওয়াত বা অন্যান্য ইবাদত করা কিংবা সর্বদা পবিত্র অবস্থায় থাকার জন্য এক বিশেষ পদ্ধতিতে মুখমণ্ডল, হাত পা ইত্যাদি ধৌত করার নামই হল অজু। এ অজু ব্যতীত নামাজ হবে না। তাইতাে হাদীসে অযুকে নামাজের চাবি বলা হয়েছে।
مفتاح الجنة الصلوة ومفتاح الصلوة الطهور –
উচ্চারণ: মিফতাহুল জান্নাতি আচ্ছালাতু ওয়া মিফতাহুছ ছালাতি আততুই ।
অর্থ: বেহেশতের চাবি হচ্ছে নামাজ আর নামাজের চাবি হচ্ছে। পবিত্রতা বা অজু।

অজু কিভাবে করতে হয়

প্রথমত: পবিত্র পানি সংগ্রহ করতে হবে অতঃপর-
بسم الله الرحمن الرحيم
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
.
অর্থ: পরম করুণাময় আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। অতঃপর অজুর জন্য এভাবে নিয়ত করবে।
تويت أن أوضالرفع الحدث واستباحة للصلوة
وتقربا الى الله تعالی
উচ্চারণ: নাওয়াইতুআন্ আতা ওয়াজ্জাআ লিরাফয়িল হাদাছি, ওয়া ইস্তেবাহাতান লিস সালাতি, ওয়া তাক্বাররুবান ইলাল্লাহি তায়ালা।
.
অর্থ: আমি নাপাকী বিদূরীত করা ও নামাজ বৈধ হওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য অজু করার নিয়ত করছি ।
অতঃপর উভয় হাতের কব্দি পর্যন্ত তিন বার ধৌত করতে হবে। এক হাতের অক্ষুণীকে অপর হাতের অঙ্গুলীর ভিতর ঢুকিয়ে খিলাল করবে এবং সম্ভব হলে ঐ সময় এ দোয়া পাঠ করবে ।
بسم الله العلى العظيم والحمد لله على دين
الاسلام الاسلام حق والكفر باطل الاسلام ور والفر
ظلمة
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল আলিয়্যিল আজীম। ওয়াল হামদু লিল্লাহি আলা দ্বীনিল ইসলাম। আল ইসলামু হাকুন ওয়াল কুফরু বাতিলুন । আল ইসলামু নূরুন ওয়াল কুফরু জুলমাতুন।
.
অর্থ: সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তিনি আমাদের ধর্মকে ইসলাম মনােনীত করেছেন। এ জন্য, ইসলাম সত্য কুফর বাতিল, ইসলাম জ্যোর্তিময় আর কুফর আঁধারে পরিপূর্ণ।
.
এরপর তিনবার কুলি করতে হবে। আর রােযাদার না হলে কুলির সাথে গড়গড়া করবে এবং মিছওয়াক করবে। আর মিছওয়াক না থাকলে হাতের অঙ্গুলি দিয়ে দাঁত মর্দন করবে এবং সম্ভব হলে এই দোয়া পাঠ করবে-
اللهم أعني على تلاوة القرآن وذكرك وشكرك
وحسن عبادتك –
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আয়িন্নী আ’লা তিলাওয়াতিল কুরআন, ওয়া জিকরিকা। ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনিই বাদাতিকা ।
.
অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি তােমার কুরআন তেলাওয়াত, তােমার কৃতজতা এবং তােমার সুন্দর ইবাদত করার ক্ষেত্রে আমায় সাহায্য কর। বা আমায় শক্তি দাও। এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে তিন বার নাকে পানি টেনে নিতে হবে এবং বাম হাতের কনিষ্ঠা অঙ্গুলি দ্বারা নাকের ভিতর পরিষ্কার করবে। যদি রােযাদার হয় তবে সে নাকে পানি টানবে না বরং তখন। হাত দিয়ে ঢেলে দিলে যতটুকু যায় তাই যথেষ্ট এবং সম্ভব হলে এ দোয়া পাঠ করবে ।
اللهم ارحنى رائحة الجنة ولا ترختی رائحة الثار
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আরিফুনী রালয় হাতা জান্নাতি, ওয়ালা তুরিনী রায়ে হাতনি নারি ।
.
অর্থ: হে প্রভু। আমার আপনি বেহেশেতের ঘ্রান লওয়ার তওফিক দিন এবং জাহান্নামের দুর্গন্ধ থেকে আমায় হিফাজত করুন।
.
 -এরপর সমস্ত চেহারাকে তিন বার ধৌত করতে হবে। তার সীমা হল কপালের চুলের গােড়া হতে থুতনীর নিচ পর্যন্ত এবং উভয় কানের লতী পর্যন্ত । যদি কার দাড়ি ঘন হয় তখন সে দাড়িতে আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে তা খেলাল করবে এবং সম্ভব হলে এ দোয়া পাঠ করবে ।
اللهم بيض وجهي يوم تبيض وجوه وتسود وجوه-
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বাইয়িদ ওয়াজহী ইয়াওমা তাবইয়াদু উজুহুন ও তাস ওয়াদু উজুহুন ।
.
অর্থ: প্রভূ হে! তুমি আমার চেহারাকে রওশন কর সেদিন, যেদিন কতেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল আলােকিত হবে। আর কতেক হবে কৃষ্ণবর্ণের । এর তিনবার ডানহাতে কুনই সহ ধুবে এবং ডান হাতকে হাম দ্বারা ভাল করে মর্দন করবে আর সম্ভব হলে এ দেয়া পড়বে।
.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আ’তিনী কিতাবী বিয়ামীনী ওয়া হাসিবনী হিসাবাই যাসীরান।
اللهم اعطنى کتابى بينى وحاسبني
حسابائسیرا –
অর্থ: ওহে, পরওয়ারদেগার! তুমি আমার আমলনামা আমার ডান হাতে প্রদান কর ও আমার থেকে সহজ ভাবে হিসেব গ্রহণ কর। এরপর অনুরূপ ভাবে বাম হাত ধুবে তিনবার এবং এ দোয়া পাঠ করবে যদি সম্ভব হয়।
اللهم لاتعطنى کتابی بشمالی ومن وراء ظهري-
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাতু’তিনী তিবী বিশিমালী ওয়া রঅ মিন ওয়ারায়ি জাহরী ।
.
অর্থ: হে আমার প্রভু! তুমি আমার আমলনামা আমার বাম হাতে দিওনা। আর আমার পশ্চাতেও নয়।
.
অতঃপর সমস্ত মাথা একবার মাহাত্ম করতে হবে এবং মাছাহর সাথে কান ও গর্দানকেও মাছাহ কবে এবং মাছের সময় এ দোয়া পড়া ভাল।
اللهم أظلنى تحت ظل عرشك يوم لا ظل الا ظل
عرش –
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিল্লানী তাহতা জিল্লি আরশিকা ইয়াওমা লা-জিন্নাইল্লা জিলু আরশিক।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার তােমার আরশের ছায়াতলে ছায়া প্রদান কর সেদিন, যেদিন তােমার আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না এবং কান মাছার সময় এ দোয়া পড়বে যদি সম্ভব হয়।
اللهم اجعلني من الذين يستمعون القول فيتبعون
أحسنه-
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজ আলনী মিনাল্লাজীনা ইয়াসমিউনাল কৃওলা ফাওয়ায়াত্তাবিউনা আহসানাহু।
অর্থ: হে প্রতি পালক! যারা আপনার কথা শুনে তাকে ভালভাবে অনুস্মরণ করে আমায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং গর্দান মাছা করার সময় এ দোয়া পড়া ভাল বা মুস্তাহাব।
اللهم اعتق رقبتي عن النار –
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার গর্দানকে জাহান্নামের অগ্নি হতে মুক্ত রাখ । এরপর উভয় পা টাখনুগিরাসহ দৌত করবে প্রথমে ডান পা ধুইবে এবং পড়বে।
اللهم ثبت قدمى على الصراط يوم تزل الأقدام –
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ছাব্বাতি ক্বাদামী আলাস সিরাতা ইয়াওমা তাঝিলুল আকৃদাম।
.
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার পা সুদৃঢ় রাখ সিরাতের উপর সেদিন যেদিন সেখান হতে বহু পা পিছলে যাবে, এবং বাম পা ধােয়ার সময় এই দোয়া পড়বে।
اللهم اجعل دبي مغفورا وسعبى مشگورا
وتجارتی لن تبور
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজ আল জাম্বী মাগফুরান ওয়া সা’য়ী মাশকুরান। ওয়া তিজারাতীলান তাবুরা।
.
অজু শেষে আকাশের দিকে তাকিয়ে এ দোয়া পাঠ করতে হবে ।
أشهد أن لا اله الا الله وحده لا شريك له وأشهد أن
محمدا عبده ورسوله-
উচ্চারণ: আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়াআশ হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।
.
অর্থ: আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই তিনি এক তাঁর কোন শরীক বা অংশিদার নেই এবং আমি আরও স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ (স) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
.
যে ব্যক্তি অজুর শেষে উপরােক্ত দোয়া পড়ে তার জন্য বেহেশতের আটটি দরজা খােলা থাকবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করবে।
(মিশকাত পৃঃ ৩৯)

Leave a Reply

Your email address will not be published.