হারাম দ্রব্যাদির ব্যবসা

মহান আল্লাহ পাক যখন কোন বস্তু হারাম করেন তখন সেই বস্তু হতে লাভ
করাটাও না-হক ও হারাম করেন এই জন্য যে, যাতে নিষিদ্ধ বস্তুর ক্রয়-বিক্রয়
নিষিদ্ধ হয়। এই কথার উপরেই মহানবী (সা) মৃতবস্তু, মাদকদ্রব্য, শুকর এবং
মূর্তির ব্যবসা নিষিদ্ধ করেছেন। অতএব যে মৃত বস্তু তথা মৃত পশুর মাংস বিক্রি
করল, যে পশুকে শরীয়ত সম্মত উপায়ে জবেহ করা হয় নাই সে নিশ্চয়ই মৃত বস্তুই
বিক্রয় করল আর হারাম বস্তুর মূল্যও হারাম। আর সেটা দিয়েই সে উপকৃত হল ।
এভাবে খাদ্যদ্রব্য ও মাদকদ্রব্য বলতে প্রত্যেক নেশাদার বস্তুকেই বুঝায়। মহানবী
(সাঃ) বলেছেনঃ
“প্রত্যেক নেশাদারক বস্তুই মাদক দ্রব্য আর প্রত্যেক মাদকদ্রব্যই হারাম।”
এতদ্ব্যতীত মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে দশ ব্যক্তিকে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে।
گل مسکر خمر وكل خمر حرام إن الله لعن الخمر وعاصرها ومقتصرها وبائعها ومبتاعها
وشاربها و آكل منها وحاملها والمحموله إليه ساقيها
“নিশ্চয় আল্লাহ পাক অভিশাপ দেন মাদকদ্রব্য ও মাদকদ্রব্য প্রস্তুতকারীকে,
প্রস্তুতকাজে সাহায্যকারীকে, বিক্রেতাকে, বিক্রয়ে সাহায্যকরীকে, পানকারীকে, এর
মূল্য ভক্ষণকারীকে, মাদকদ্রব্য বহনকারীকে, বহন করার কাজে বহনকারীকে
সাহায্যকারীকে এবং যিনি পান করান তাকে। [ তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ ।
প্রত্যেক নেশাদায়ক বস্তুই মাদকদ্রব্য, সেটাকে যে নামেই নামাঙ্কিত করা
হােক, সেটাকে মাদকদ্রব্য বলা হােক বা মদ নাম দেওয়া হােক। অথবা মৃতসঞ্জীবনী
নাম দেয়া হােক বা টনিক নাম দেয়া হােক অথবা অন্য কোন নাম দেয়া হােক না
কেন নাম বস্তুর প্রকৃতিকে পরিবর্তন করতে পারে না।
বরং এ ব্যাপারে হাদীসে যে ভাষ্য এসেছে তা নিম্নরূপঃ
শেষযুগে মুসলমানরা মাদক দ্রব্যকে অন্য নামে নামান্তর করবে আর তা পান করবে
অনুরূপভাবে মারাত্মক জীবন সংহারক মাদকদ্রব্য যেমনঃ আফিম, হেরােইন
হাশিশ ইত্যাদি ছাড়াও অন্যান্য মারাত্মক জীবনসংহারক মাদকদ্রব্য যা মানুষ উদ্ভাবন
করছে এ সকল প্রকারের যে ব্যবসা করল এবং এতে বিনিয়ােগ করল সে
মুসলমানদের দৃষ্টিতে অপরাধী এবং সারা বিশ্বের দৃষ্টিতেও। কেননা এই সমস্ত
মারাত্মক জীবন সংহারক মাদকদ্রব্যের দ্বারা মানবজাতির জন্য সর্বশেষ পরিণাম
হচ্ছে শুধু তাদের ধ্বংসকারী অন্ত্র ।
.
অতএব, যে ব্যক্তি এই সমস্ত জীবনসংহারক মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করল অথবা
বিনিয়ােগ করল অথবা বিনিয়ােগকারীদের সাহায্য করল সহযােগিতা করল তারা
সকলেই রাসূলুল্লাহ (সা) এর অভিশাপে পতিত হল। এই ব্যবসায় লাভ হল নিকৃষ্ট
হারাম এতে যারা বিনিয়ােগ করে তাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত। কেননা এরা
ভূ-পৃষ্ঠে অশান্তি সৃষ্টি করেছে।
.
অনুরূপভাবে সিগারেট বা তামাক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসাও হারাম।
বিশেষত ধুমপান বা সিগারেট ক্ষতিকর এবং রােগ বিস্তারকারী। সকল
প্রকার ক্ষতি এই সিগারেটে রয়েছে। লাভের বিন্দুমাত্র এতে নেই বরং মানুষ
এর গন্ধকে অপছন্দ করে এবং এটা দৃষ্টিকটু। ধুমপায়ীর সাথে চলাফেরা
মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কারণ আপনার পার্শ্বে বা আপনার সাথে
যদি কোন ধুমপায়ী ভ্রমণ করে সে যানবাহনে হােক বা বিমানে, তার
কটুগন্ধ এবং তার ধুমপান এবং বিশেষ করে তার মুখের গন্ধ আপনার
ভ্রমণকে অস্বস্তিপূর্ণ করে তুলবে এবং এটা একজন অধুমপায়ীর জন্য
সবচেয়ে কষ্টকর মুহূর্ত যখন কোন ধুমপায়ী তার পার্শ্বে বসে এবং ধুমপান
করার মুহূর্তে তার মুখের উপর ধােয়া ছাড়ে, এ মুহূর্তে সে কিভাবে একজন
ধুমপায়ীর উপস্থিতি সহ্য করবে।
.
অতএব, শুধুমাত্র এই কারণগুলির মাধ্যমে নির্ণয় করা যায় যে, ধুমপান সবদিক
দিয়ে অপকারী এবং এতে কোন উপকারিতা নেই। এ কারণে এটা নিঃসন্দেহে
হারাম। এক কারণে নয় বহু কারণে এটা হারাম।
এতে অর্থের অপচয় হয়, সময়ের অপব্যবহার হয়, স্বাস্থ্যহানি হয় এবং চেহারা
উজ্জ্বলতা হারায়, ঠোট কালাে হয়, দাত নষ্ট হয়ে যায় এবং এতে বহু রকমের
.
রােগের জন্ম হয়। এই ধুমপান বিষয়ে বহু মানুষের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং এতে
শিথিলতা করছে। এমনকি এমন অনেকে রয়েছে যে, ধুমপান করে না এবং
এটাকে খারাপ জানে তদুপুরি এর ব্যবসা করে চলছে। কারণ সে যে কোন পন্থায়
অর্থ উপার্জন করতে চায়। অথচ এই সব লােকেরা জানে না যে, এই ব্যবসা তার
অন্য সমস্ত হালাল উপার্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কারণ সিগারেটের উপার্জিত অর্থ
সে অন্য ব্যবসায়ে সঙ্গী করেছে এতে করে সে সেই ব্যবসাকেও ধ্বংস করে
দিচ্ছে। কারণ ধুমপান ব্যবসা নিকৃষ্ট, হারাম, আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ পন্থায় জীবিকা
অন্বেষণ করা হলাে। আল্লাহ কর্তৃক বৈধ পন্থায় জীবিকা অর্জন করা হলাে না। এবং
এটা সত্য যে, আল্লাহ আপনার জন্য যে জীবিকা নির্ধারণ করেছেন তা অবশ্যই
আপনি তার অনুগত হন এবং তার বৈধ পন্থায় জীবিকা অর্জন করেন তবে তিনি
আপনার উপর সন্তুষ্ট হবেন এবং আপনার মালে বরকত দান করবেন।
.
আমাদের মনে রাখতে হবে ইসলাম যেসব বস্তু হারাম করেছে তার মধ্যে
পাঁচটি দিকের যে কোন একটি দিকের ক্ষতি হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। (১)
স্থাস্থ্যের ক্ষতি, (২) সম্পদের ক্ষতি, (৩) পারিবারিক ক্ষতি, (৪) সামাজিক ক্ষতি,
(৫) রাষ্ট্রীয় ক্ষতি। এ পাঁচ প্রকারের যে কোন একটি বিভাগে যদি ক্ষতির সম্ভাবনা
তিল মাত্রও দেখা দেয় তবে ইসলাম তখনি তা হারাম বলে ঘােষণা দিবে। আর
পৃথিবীর কোন ব্যক্তি বলতে বা প্রমাণ করতে পারবে না যে, মাদকদ্রব্য মানুষের এই
পাঁচটি বিভাগের কোন একটিতে উপকার করছে। হ্যাঁ, কিছু লােকের লাভ হচ্ছে
যারা এই সমস্ত দ্রব্যের কারখানা স্থাপন করেছে আর যারা এতে বিনিয়ােগ করেছে।
এবং এর প্রচারে ও প্রসারে নিজেদের সকল প্রকারের সহযােগিতা এতে ব্যাপ্ত করে
আছে। এদের ব্যতীত সমগ্র মানবজাতি যারা এগুলাের ব্যবহার করে আসছে, তারা
আমাদের কোন প্রকারের ক্ষতি হচ্ছে না তবে সুস্থ ব্যক্তি মাত্রই
তাকে পাগল বা মস্তিষ্ক বিকৃতি সম্পন্ন ব্যক্তি বা নেশাচ্ছন্ন বলে অভিহিত করবেন।
বরং আজকের বিজ্ঞান বলতে বাধ্য হচ্ছে যে, ধুমপান মানব জীবনে যেমন
ক্যান্সারসহ বিভিন্ন প্রকারের জটিল রােগের বিস্তার ঘটাচ্ছে তা শুধু ব্যক্তিগত জীবন
পর্যন্ত থেমে নেই, বরং তা নিজ পরিবারের মধ্যেও বিস্তার ঘটছে।
.
আধুনিক বাংলাদেশে বর্তমানে মদের নাম আরেক বার পরিবর্তন করা হলাে
বলা হচ্ছে ইনার্জি ড্রিঙ্ক। যা খেলে মন চাঙ্গা হয়, দুর্বলতা দূর হয় ইত্যাদি। কিন্তু
যদি আপনি বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করেন তাহলে নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন
যে, মদের যে উপাদান তা এই বিয়ারে রয়েছে। তাহলে আপনার চিন্তা কি বলে?
যদি বলে যে,

Leave a Reply

Your email address will not be published.