৫ম ঘটনা-উসমান ইবনে আফফান রাঃ – ইসলাম গ্রহণ

ইসলাম গ্রহণ

যখন আবু বকর রা. উসমান রা.-কে ইসলামের দাওয়াত দেন, তখন তার
বয়স ছিল ৩৪ বছর। এ দাওয়াতে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি; বরং তিনি
সঙ্গে সঙ্গেই আবু বকর রা.-এর আহ্বানে সাড়া দেন। এভাবে তিনি নিজেকে।
অন্তর্ভুক্ত করে নেন প্রথমসারির মুসলমানদের তালিকায়। আবু ইসহাক বলেন,
‘আবু বকর, আলি এবং জায়দ ইবনে হারেসার পর প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী
হলেন উসমান।
.
সেই হিসেবে চতুর্থ ইসলাম গ্রহণকারী মুসলমান হচ্ছেন উসমান রা.। সম্ভবত
এত আগে ইসলাম গ্রহণ করার পেছনে সিরিয়া থেকে ফেরার পথে সংঘটিত
তাঁর জীবনের একটি ঘটনার প্রভাব রয়েছে। যখন তিনি তালহা ইবনে
উবায়দুল্লাহ রা.-এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সা.-এর নিকট গমন করেন, তখন তিনি
রাসুল সা.-কে এ ঘটনা অবহিত করেন। রাসুলুল্লাহ সা. তাদেরকে দীনের
দাওয়াত দেন। তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করে শােনান। ইসলামের
মৌলিক দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন এবং আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত হওয়ার
প্রতিশ্রুতি দেন। তারপর তাঁরা রাসুল সা.-এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেন।
উসমান রা. বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি এইমাত্র সিরিয়া থেকে ফিরেছি।
আমাদের কাফেলা যখন ‘মাআন’ এবং জারকা’র মধ্যবর্তী ছিল, আমার তখন
তন্দ্রার ভাব আসে। ওইসময় আমি স্বপ্নে এক ব্যক্তিকে আহ্বান করতে
শুনলাম—“হে ঘুমন্ত ব্যক্তি, ওঠো। মক্কায় আহমাদ নামে এক রাসুলের
আবির্ভাব হয়েছে।” তারপর আমরা মক্কায় ফিরে এসে আপনার সম্পর্কে
অবগত হই।
.
নিঃসন্দেহে মানুষের ভেতর এ জাতীয় ঘটনা প্রভাব না ফেলে পারে না।
উপরােক্ত ঘটনা উসমান রা.-এর ওপর ভালাে প্রভাব ফেলে। যে শহরে তিনি
বসবাস করতেন, সেখানে পৌছার আগেই নবির আগমনের সংবাদ
আশ্চর্যজনকভাবে শােনার ঘটনা তিনি কী করে ভুলবেন? তিনি শহরে প্রবেশ
করেই এর সত্যতা অনুধাবন করেছেন। তার পক্ষে সত্যের আহ্বানে সাড়া
দিতে আর কোনাে দ্বিধা রইলাে না। মানুষ যতই ঔদ্ধত্য পােষণ করুক, সে
সত্যের সামনে আত্মসমর্পণ না করে পারে না। রাসুল সা.-এর আহ্বান নিয়ে
তিনি স্বভাবতই গভীরভাবে ভেবেছেন। এটা যে আসলেই পরম সত্যের প্রতি
আহ্বান এবং বাতিল অপসারণের মাধ্যম—এ ব্যাপারে তিনি সন্দেহ পােষণ
করেননি।
.
রেফারেন্স
১. সিরাতে ইবনে হিশাম : ১/২৮৭-২৮।
২. অবাক তে ইবনে সাল। ৩/৫৫।
৩. জলাতুন তারিবিয়াতুন ফি আসরি খুলাফাইর রাশিদিন : ৩০২।

Leave a Reply

Your email address will not be published.